১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:০৯
সংবাদ শিরোনাম
দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা সিলেটে ‘সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ’-এর নতুন কমিটি গঠন আক-আকসা ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংস্থা বেতসান্দির উদ্যোগে রাস্তা পরিস্কার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইসলাম খানকে আল-মুছিম স্কুল এন্ড কলেজের সংবর্ধনা ড. হাসনাত মুহাম্মদ হোসেইনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরীর ড. এনামুল হকের হাতে সিলেট ক্যালিগ্রাফি সোসাইটির “দানের শীষ ক্যালিগ্রাফি” আল-মুছিম স্কুল এন্ড কলেজের “এসএসসি-২০২৬”র বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন আল-মুছিম স্কুল এন্ড কলেজে ‘পহেলা বৈশাখ উদযাপন’ মিজানুর রহমান চৌধুরীর হাতে সিলেট ক্যালিওগ্রাফি সোসাইটির ‘ধানের শীষ ক্যালিওগ্রাফি’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৪ নং ওয়ার্ড দর্শন দেউড়ি ইউনিটের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

নতুন সংস্কৃতির পথে ঢাবি: নিজ উদ্যোগে হল ছাড়লেন ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন খান

আবদুল কাদির জীবন
  • আপডেট বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫
  • ৩৭৫ বার পঠিত
ছাত্রত্ব শেষে নিয়ম মেনে হল ত্যাগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ধারার সূচনা। নিজ উদ্যোগে হল ছাড়লেন ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর দীর্ঘদিনের একটি আলোচিত সংস্কৃতি ছিল, ছাত্রত্ব শেষ হলেও অনেক শিক্ষার্থীর হলে অবস্থান করা। এই অনৈতিক দখলদারিত্বে শুধুমাত্র প্রভাবশালী ছাত্রনেতারাই নয়, চাকরিপ্রার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়তেন। তবে গত বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ছাত্র-আন্দোলনের পর পরিস্থিতির ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান। স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশের পরপরই তিনি নিজ উদ্যোগে হল ছেড়ে দিয়েছেন, যা বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
গত ২২ এপ্রিল প্রকাশিত স্নাতকোত্তরের ফলে মহিউদ্দিন খান তার ব্যাচে ৩.৯৭ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম হন। এরপর ২৫ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি হল ত্যাগের ঘোষণা দেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “হলের সুন্দর এই পরিবেশ চলমান থাকবে যদি ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পর আমরা নিয়ম মেনে হল ছেড়ে দিয়ে অনুজদের অধিকার বুঝিয়ে দিই। আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সিদ্ধান্তটা কঠিন মনে হলেও, যারা ছাত্রলীগের জুলুম সহ্য করেছে, তারা আর নতুন জুলুমের জন্ম দিতে পারে না।”
মহিউদ্দিন খান আরও জানান, প্রথম বর্ষে হলে ওঠার ১২-১৩ দিনের মধ্যেই ‘গেস্টরুম’ নামক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে হল ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বর্ষের শেষদিকে লিগ্যাল এলিমেন্ট হিসেবে হলে থাকার সুযোগ পেলেও ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারির এক ভয়াবহ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সেই রাতে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হন শাহরিয়াদ ও মাহমুদ নামের দুই শিক্ষার্থী, যার প্রেক্ষিতে তিনিও নিরাপত্তার অভাবে হল ছাড়তে বাধ্য হন।
স্নাতকোত্তর শেষ করার পর নিয়ম মেনে হল ত্যাগ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্রলীগ হলে সিট নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীদের উপর দখলদারি কায়েম করতো। কিন্তু জুলাইয়ের পর হলে এখন নিয়মতান্ত্রিকতা ফিরে এসেছে। গণরুম-গেস্টরুমের সেই জঘন্য চর্চা আর নেই। এখন সবাই নিয়মমাফিক হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।”
মহিউদ্দিন খানের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। অনেকেই মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ছাত্ররাজনীতিতে নৈতিকতার চর্চা এবং একটি সুস্থ সংস্কৃতির ভিত্তি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2025 AkashBangla. Developed by PAPRHIHOST
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo