সিলেটের মেজরটিলায় বেড়েই চলছে সবজিবাহী ট্রাক আটকে চাঁদাবাজির ঘটনা। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি নেতা মো. বাচ্চু মিয়া ও তার কর্মীরা। সবজি দোকানগুলো থেকে নিয়মিত জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে তারা। চাঁদা না পেলে ছিনিয়ে নিচ্ছে সবজি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. বাচ্চু মিয়া ও তার কর্মীদের এসব চাঁদাবাজির কারণে তারা ব্যবসা করতে পারছেন না ঠিকমতো। এতে পুলিশেরও যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এই অবস্থায় বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ ও নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন মেজরটিলা বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা। চাঁদাবাজি ও ছিনতাই বন্ধের দাবিতে সবজিচাষি, কাঁচামাল ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী নেতা ও সবজি পরিবহনকারী শ্রমিকরা মেজরটিলা বাজারে গতকাল বিক্ষোভ করেন।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন ভোরে ব্যবসায়ীরা সিলেটনগরীর সোবহানীঘাট থেকে পাইকারি মূল্যে সবজি কিনে নিয়ে মেজরটিলা বাজারে আসেন। ভোরে সবজি নিয়ে আসার সময় গাড়ি থেকে মাল খালাস করার পূর্বেই তাদেরকে আগে চাঁদা দিতে হয় বিনএপি নেতা বাচ্চু মিয়া ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের। চাঁদা না দিলে তাদের উপর চলে হামলা ও লুটপাট। গতকাল শনিবার প্রতিদিনের মতোই সবজি ব্যবসায়ীরা সবজি নিয়ে বাজারে আসেন। পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা বাচ্চু মিয়া ও তার কর্মীরা হঠাৎ করে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার নিয়ে সড়কে ‘ব্যারিকেড’ দেন। এরপর গাড়ি আটকে তারা চাঁদা দাবি করেন। প্রতি গাড়ি থেকে তারা ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের উপর হামলা শুরু করেন বাচ্চু মিয়ার কর্মীরা। এতে সবজি ব্যবসায়ী আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, সাইফুল আলম সহ মোট ৭ জন আহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তারপর সবজি বহনকারী গাড়ি চালকদের অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে গাড়ি থেকে ইচ্ছামতো সবজি লুট করে নিয়ে যান।
সবজি ব্যবসায়ী আশিক মিয়া বলেন, ফুলকপি পাতাকপিসহ বিভিন্ন কাঁচামাল এসেছিলো সোবহানীঘাট থেকে। এমন সময় বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়া ও তার কর্মীরা অতর্কিত হামলা করে চাঁদার টাকা না পেয়ে আমাদের উপর হামলা করে কয়েকজনকে আহত করে। তারপর অস্ত্রের মুখে গাড়ি চালকদের জিম্মি করে প্রায় ১ লাখ টাকা সমমূল্যের সবজি লুটপাট করে পালিয়ে যায়। এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই মেজরটিলা বাজারে ঘটে কিন্তু পুলিশ কিছুই করছে না।
বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী পথসভা থেকে মেজরটিলা বাজারের ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান রিপন তার বক্তব্যে বলেন, মেজরটিলা বাজারে চাঁদাবাজির যন্ত্রণায় ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসায়ীরা এসব চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। প্রসাশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে শাহপরান থানার পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইল তিনি বলেন, এটা একটা অন্যায় কাজ। যেহেতু আমরা অবগত হয়েছি অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শীঘ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক আমরা চাই না।’