কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন বাজার কলেজের আইটি শিক্ষক ও একাধিক বইয়ের লেখক নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম নেতা মোবারক আজম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নাজমুল হাসান একজন নাস্তিক এবং তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমকামীদের পক্ষে লেখালেখি করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানিয়েছেন।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশ থেকে বক্তারা তাকে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানার জন্য নাজমুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা যায় নাই।
নাজমুল হাসানের বাবা মাহফুজুর রহমান ভূইয়া অভিযোগ করে জানান, হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে আহত করে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে সমকামীদের পক্ষে কথা বলেছে, কিন্তু কোনো আইনগত অপরাধ করেনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৫ অক্টোবর হেফাজতে ইসলাম কর্মীরা তার ছেলে নাজমুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এছাড়া ১৭ অক্টোবর নাজমুলের স্ত্রী তানজিনা সিফাতকে বোরকা না পরার অভিযোগে হামলা করা হয়।
মাহফুজুর রহমান ভূইয়া দাবি করেন, এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
উল্লেখ্য যে নাজমুল হাসান ৩ টি বইয়ের লেখক। তার বই গুলোতে তিনি মৌলবাদীদের ধর্মীয় সমালোচনা করে লিখেছেন।
ঘটনাগুলো নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।